গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিকেনের দেখা মেলা ভার

ছবি হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার হারিকেন

মো. আমজাদ হোসনে রতন, নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতনিধি: গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ও আদরে লালিত হারিকেন এখন বিলুপ্তির পথে। গ্রাম বাংলার ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল পরিবারের মাঝেই হারিকেন বাতি আলোকিত করতো। সন্ধ্যার পর হতেই রাতের অন্ধকার দূর করতে একটা সময় দেশের প্রতিটি গ্রামের মানুষের অন্যতম ভরসা ছিল হারিকেন, দোয়াত(কুপি)বাতি। ৯০ দশকরে র্পূবে ও কিছুকাল পর দেশ বিদেশি চাকরিসহ নানা উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত থাকাদের মধ্যে অনকেইে পড়ালেখা করেছেন এই হারিকেনের মৃদু আলোয়। গৃহস্থালি এবং ব্যবসার কাজেও হারিকেনের ছিল ব্যাপক চাহিদা। বিয়ে জন্মদিন বা পারিবারিক কোন অনুষ্ঠানে লোকের সমাগম হলে ব্যবহার হতো হ্যাজাক, পাশাপাশি জমা রাখা হতো এই হারিকেন। যুগের পরির্বতনের পাশাপাশি হারিকেনের স্থান দখল করছে নানা ধরনের বৈদ্যুতিক চার্জার বাতি। বৈদ্যুতিক ও চায়না বাতির কারণে গ্রাম ও শহরে হারিকেনের ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। সেই আলোর প্রদীপ এখন গ্রাম থেকেও প্রায় বিলুপ্তি হচ্ছে।
হারিকেন জ্বালিয়ে বাড়ীর উঠানে বা বারান্দায় পড়াশোনা করত শিক্ষার্থীরা। রাতে পথ চলার জন্য ব্যবহার করা হত হারিকেন। হারিকেনের জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন আনার জন্য প্রায় বাড়ীতেই থাকত কাঁচের বিশেষ ধরনের বোতল। সেই বোতলে রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো। গ্রাম গঞ্জের হাটের দিনে সেই রশিতে ঝোলানো বোতল হাতে যেতে হতো হাটে, এ দৃশ্য বেশি দিন আগের নয়। পল্লী বিদ্যুৎতায়নের যুগে এখন আর এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য দোয়াত, কুপি ও হারিকেন এখন শুধুই স্মৃতি হিসেবে অনেকের বাড়ীতেই। তবে অনাদর আর অবহেলার পাত্র হিসেবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের লোগোটি এখন জীবন্ত। এক হাতে হারিকেন ও বস্তাবন্দি চিঠিসহ ছুটে চলছেন তার র্কম পালনে। নিত্য নতুন প্রযুক্তি মানুষকে উন্নত করছে, তাই হারিকেন ছেড়ে মানুষ এখন সৌর বিদ্যুৎ সহ বিদ্যুৎতের দিকে ঝুঁকছেন। তাপবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী হারিকেন বিলুপ্তির পথে।

বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার সৌরবিদ্যুৎসহ বেশ কিছু আলোর জোগান থাকায় এখন আর কেউ-ই ঝুঁকছনে না হারিকেন, দোয়াত, কুপি বাতি বা হ্যাজাকের দিকে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবওে না হারিকেন কী ও হারিকেনের ইতহিাস!

ঘিওরকোল গ্রামের মোছা. রহতিন বেগম(৭৫), লাকী তালুকদার(৪০) জানান, আমাদের বাড়ীতে দেশ স্বাধীনের র্পূব হতেই কেরোসিনের বাতি এবং পরর্বতীতে হারিকেনের ব্যবহার করা হতো। যাহা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। প্রযুক্তরির উন্নতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য এখন আর উক্ত সরঞ্জাম গুলোর ব্যবহার না করলেও স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি। এই ব্যবহারিত হারিকেনটি ১৯৯৪ সনে ক্রয়কৃত।

নাগরপুর মহলিা অর্নাস কলেজের সমাজ বিজ্ঞান এর প্রভাষক মো. মামুন মিয়া বলনে, হারিকেন আমাদরে পরম বন্ধু ছিল, হারিকেন জ্বালিয়ে আমরা লেখাপড়া করেছি। এখনকার ছাত্রছাত্রীদের কাছে হারিকেন এর কথা কাল্পনকি মনে হবে। ঘরে বিদ্যুৎ, সোলার থাকায় আজ হারিকেনের কোন প্রয়োজন নেই, তবে ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য হারিকেন এর বিষয়ে ইতিহাসে স্হান দেওয়া উচতি।

উপজেলার বিভিন্ন বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা র্দীঘ দিন যাবৎ ব্যাবসা করছি সেই ১৯৯০-‘৯৫ সালের কথা, দোকানে হারিকেন, কুপি, দোয়াত বাতি বিক্রি করতাম। আজ ৩৫/৪০ বছর পর এসে দেখি হারিকেন, কুপি বেচা কেনা নেই।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীর বলনে, হারিকেন এর ঐতিহ্য বাংলার মানুষের অন্তরে মিশে আছে এবং থাকবে। সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্হা করছে। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে হারিকেন ধরে রাখার কোন ব্যবস্হা নেই, এই হারিকেন এর ঐতিহ্য যুগের পর যুগ ধরে রাখার জন্য জাতীয় যাদুঘরে রাখার ব্যবস্হা করতে পারেন সরকার।

শেয়ার করুন
3 Comments
  1. OrionArmani May 8, 2022 Reply
  2. Williambah July 1, 2022 Reply
  3. Brentdaype August 18, 2022 Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *