ধনবাড়ীতে  নারীকে জিম্বি করে ছিনতাই ও শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ!

 

ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে রাস্তা থেকে এক স্কুলছাত্রী ও এক সন্তানের জননীসহ তিনজনকে তুলে নিয়ে ছিনতাই করে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক বখাটের বিরুদ্ধে। 

এ সময় ভুক্তভোগীদের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালালে তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে। 

গত সোমবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের চরপাড়া (শ্যামলা বিল) পূর্বপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের আসাদুজ্জামান মুকুল মাষ্টারের ছেলে মো. শুভ আহমেদ (২২), মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে কবির হোসেন (২৩) ও আমিনুল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান সোহান (২০), সাজ্জাদুর রহমান বাদশার ছেলে আকাশ মিয়া (২১)। এরা সবাই এলাকার চিহ্নিত বখাটে ও মাদকসেবী। ঘটনায় এলাকায় পুলিশির উপস্থিতি টের পেয়ে গা-ডাকা দেন অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগী ও পরিবারের স্বাজনরা জানান, ঢাকা থেকে এক স্কুলছাত্রী ও এক সন্তানের জননীসহ তিনজন গত রোববার অসুস্থ্য আত্মীয় রোগীকে দেখতে আসে কদমতলী পূর্বপাড়ার হাফেজ মো. বেলাল হোসেনের বাড়িতে। সোমবার দুপুরে ঢাকার উদ্যেশে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়ে কদমতলী বাজার থেকে একটি অটো-রিকশায় বের হন। পথ রোধ করে অটো থেকে তুলে নেয় পাশের শ্যামলা বিলের পূর্ব পাশে ওই বখাটে ও কয়েক সহযোগিরা। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। তাদরে কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকা, স্বর্ণের আংটি ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে ওই দুই নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। তাদের ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে। এসময় তাঁরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, ‘দুপুরের সময় ওই বখাটেরা গাড়িটি রোধ তাদের তুলে নিয়ে বিল পাড়ের মোজার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জেনেছি তাঁরা ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে।’

অটো চালক আমিন হোসেন বলেন, ‘তাঁরা গাড়িটি রোধ করে জোরপূর্বক তাদের জিম্বি করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে।’ 

স্থানীয়রা জানান, ‘কদমতলী বাজরের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী ও কথিত কাজি মনিরুজ্জামান রাঙ্গার সহায়তায় ওই বিলপাড় এলাকায় একটি চক্রের ছত্রছায় তাঁরা দীর্ঘদিন মাদক সেবন, বিক্রিসহ  এ কর্মযজ্ঞ চালায়। অপরিচিত লোক দেখলেই এমন ঘটনা ঘটায়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আ. রাজ্জাক এ ঘটনা সত্যাতা স্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনাটি জেনিছি, খুবই ন্যাক্কারজনক। ওই ছেলেগুলো মাসকাসক্ত। সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।’

অভিযুক্ত শুভ আহমেদ বলেন, ‘হাতের স্বর্ণের আংটি নেয়া হয়েছিল পরে ফেরত দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।’

ধনবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটন্থাস্থলে পুলিশ গিয়ে ছিল। ওই এলাকায় কিশোর গ্যাং রয়েছে। অভিযান চলছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *